Wednesday, April 1, 2026


বল বীর –

বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর –

আমি চির উন্নত শির!

আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,আমি দুর্বার,আমি ভেঙে করি সব চুরমার!আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!আমি মানি না কো কোন আইন,আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীরআমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!বল বীর –চির-উন্নত মম শির!

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ফিং দিয়া দিই তিন দোল;আমি চপলা-চপল হিন্দোল।আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা,আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা!আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর!বল বীর –আমি চির উন্নত শির!

আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।

আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,আমি অবসান, নিশাবসান।আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্যমম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্য;আমি কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা-বারিধীর।আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।বল বীর –চির – উন্নত মম শির!

আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!আমি প্রভোন্জনের উচ্ছ্বাস, আমি বারিধির মহা কল্লোল,আমি উদ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্জ্বল,আমি উচ্ছ্বল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল-দোল!

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ – জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফেরআমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়চিত চুম্বন-চোর কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম প্রকাশ কুমারীর!আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন,আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবিআমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!

আমি উথ্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়াস্বর্গ মর্ত্য-করতলে,তাজী বোররাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমারহিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!

আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্ণি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,আমি ত্রাস সন্চারি ভুবনে সহসা সন্চারি’ ভূমিকম্প।

ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’ –
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’।
আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব মায়ের অন্চল!আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুমঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুমমম বাঁশরীর তানে পাশরি’আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।আমি রুষে উঠি’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধেআমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্ত,যবে উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না –অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –বিদ্রোহী রণ ক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্ত।

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

Monday, April 26, 2021

Is this human born || Ishak Mahmud

 I have a mother, yes we have a mother

But-

The child that the mother lost on the day of birth,

He also had a mother, or-

That child rises from the sewer or pile of dirt

He lost his old mother and came to his new mother's lap

He also had a mother, maybe still has.

If I have 'mother', I become a name

Who has or had no mother,

Maybe someone who still has a mother unknowingly,

He and I had the same definition

We humans are born.


But-

To this society, except me and us

Whose mother died after birth; and-

Whose mother is left in the sewers, drains, piles of garbage

Their definition has changed!

Society has given me a civilized name

He who has no mother has given him a helpless name

The one whose mother has left him is given a vulgar name

I, we and they are born human

A man, an orphan

I got the reputation of being a 'bastard'

Is this the success of human birth?


Poem:  Is this human born

 Poet: Ishak Mahmud 


26.04.2021

Tuesday, November 10, 2020

দশটি অনুকাব্য || Ten Short Poem

(১)

অন্তরে বাঁধিবঅন্তরঅলিন্দ

গেঁথে প্রেম-মালা,
রাখিব হৃদে শক্ত বাঁধনে
লাগিয়ে মায়া তাল। 
           

(২)

আলো'তে হয় যদি মাখামাখি হৃদয়ের

উড়িয়ে দিও প্রেম ঘুড়িতে,

টেনে নিতে চাও যদি ভালোবেসে মনেতে

জনম জনম চাই পুড়িতে।          



(৩)
তুমি হীনা এক-আধ রাত,
মনে হয় দীর্ঘ যুগের দীর্ঘ প্রভাত।         


(৪)
আমার একলা থাকার মানে সে-ও জানে
যে ছেড়েছে মাঝপথে'তে কাল,       
আমি দাপিয়ে বেড়াই তাহার খোঁজে-টানে
ভেঙ্গে গেছে জীবন গাছের ঢাল।           


(৫)
ছাড়তে পারি সব বদভ্যাস   
যদি তুমি চাও,
  তোমাকে মনে রাখার বদভ্যাসের
কেবল সুযোগ দাও। 

   ভুলতে পারি পুরোটা পৃথিবী
একটুখানি বাদে,
    যেখানটাতে আলাপে জড়াবো 
      দু'টো মনের ছাদে।    


(৬)
চোখ খুলতেই হঠাৎ তুমি সামনে এলে 
     বুকের ভিতর জায়গা করে থমকে দিলে,
      সেই যে গেলে কই হারালে কই হারালে 
  আমায় ছেড়ে কোন সুদূরে,কোন আড়ালে?            


(৭)
হারিয়ে গেলে খুঁজে নিও
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে, 
      তোমার সব অসুখ সারবে
আমি নামক এক ফাইলে।    


(৮)
প্রতিদিন-ই দেখা হতো আমাদের 
মানব শূন্য ভূমি কিংবা কোলাহলে,      
হঠাৎ হারাতেই দেখা হয়নি ফের
পাইন খুঁজে তোমায় আর ধরাতলে।  


(৯)
উদিত সূর্যের আলো; আর-
দিনের তেজী ভাব,    
অস্ত হলেই সন্ধ্যায় হারায়
চাঁদের আলো'ই লাভ।   


(১০)
বাঁচার তাগিদ সবারই আছে 
আমারও কি কম?
     তবুও মরে ছাড়তে হবে; ওরে-
এসে গেলে যম।     


 

Saturday, April 11, 2020

Love to live back || Ishak Mahmud || বেঁচে ফিরলে ভালোবাসিস || ইসহাক মাহমুদ



Love to live again
Tell me to forget when you die?
Maybe the road will be closed soon
I will be surrounded by a party of birds.

Do not know my hubby during this time
Live a few days as a human being,
If the grace of the widow is on earth a few days
But keep me company as an enemy.

I can't be a darling, a friend or an enemy
Kir, will you push away with false excuse?
Satan is an enemy to us forever
He is also with us in the veins.

Love to live again
Or pull it close to hit it,
People have never been immortal since living
I love to be immortal by killing.
_________________________
Poem: love to live back
Author: Ishak Mahmud 

[24-03-2020]

Thursday, November 21, 2019

ইসহাক মাহমুদ এর অণুকাব্য (৩১-৬০)

ইসহাক মাহমুদ এর
অণুকাব্য 


৩১) 
হে প্রিয় স্বদেশ-
সবুজের বুকে রক্তের দাগ
ভুলিনি আজও মোরা,
তোমায় বাঁচাতে লাখো প্রাণ শহীদ
লাখো প্রাণ গিয়েছে পোড়া। 
তোমাকে বাঁচাতে সম্ভ্রম হারিয়েছে মা
বোনের ইজ্জতে পড়েছে কালি,
তবুও তোমায় বাঁচিয়েছিল সবে
দিয়েছিল সবে জীবনের বলি। 

৩২) 
আপন মানুষ না পেলে
মানুষ কেন যায় চলে!
মনের ভিতর প্রশ্ন জাগে,
জীবন দিচ্ছো কিসের রাগে?
আত্মহত্যা মহাপাপ 
সেটা সবাই জানে
তবুও ক্যান মানুষ মরে; 
ভালোবাসার টানে! 

৩৩) 
বরং আমি চাঁদ'কেই ভালোবেসে রাত পাড় করি
জীবন্ত প্রেমিকার কাছে ভালোবাসা যেখানে মূল্যহীন, 
ব্যস্ত নগরীতে প্রেমিকারা যখন উপেক্ষা করে যায়
চাঁদ দিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসা;করছে ভুবন নিশিতে রঙিন ।

৩৪)
এরপর আর কোনো কথা নেই- 
একদম চুপ থাকো তুমি 
কিসের এতো কথা তোমার?
ভালোবাসবে এটাই বেশি
অল্প কথায় থাকো খুশি 
ব্যস্ত আমি অন্যদিকে,ব্যস্ততা খুব আমার। 

৩৫) 
চাঁদের শহর পাড়ি দিবো 
হাটতে হাটতে চাঁদে যাবো-
সঙ্গে যাবে নাকি? 
সিড়ি মই কই পাবো 
ভড়কে গিয়ে থমকে রবো-
দিবে না তো ফাঁকি? 
চাঁদে যাবে নাকি কন্যা 
চাঁদে যাবে নাকি? 

৩৬) 
ঠেলে দিলেই কাঁদেনা সবাই
হাসা'র লোকও আছে,
কান্নাকাটি দাফন করেই
হাসতে হাসতে বাঁচে। 

৩৭) 
সন্ধ্যে নামা আকাশটা'তে
কাব্য ছুড়ি তোমার নামে,
আমার মনের পোস্ট অফিসে 
চিঠি আসেনি কোনো খামে!

৩৮) 
কালো ঘরেই ভালো থাকে
ছেড়ে যাওয়া প্রিয়জন,
বাঁচিতে বুঝেনা মনের মানুষ 
মরিলে করে আপন। 

৩৯) 
কাজল চোখে রঙিন ঠোঁটে 
মনে দিও চোট,
তোমার মনে নির্বাচন হলে 
একা-ই দিবো হাজার ভোট। 

৪০) 
হাসির ছলে কথা বলে
দুঃখের করি খোঁজ, 
সুখটা আমার ভিতর বাহির
দুঃখ টা নিখোঁজ। 

৪১) 
চক্ষু দিয়ে ঘায়েল করে
বুকের ভিতর মারো পিন,
এপাশ ওপাশ চৌচির হয়ে
ব্যথায় হৃদয় করে চিনচিন। 

৪২) 
তোমার ভিতর আমায় একটু
বাঁচতে দিও প্লিজ,
দিব্যি তোমায় বাসবো ভালো 
করছি যে প্রমিজ। 

৪৩) 
তোমার অস্তিত্ব জুড়ে আমি নই বিদ্যমান,
আমার শিরা উপশিরায় তুমি রয়েছো বর্তমান।

৪৪) 
সে চায়-
আমি যেনো তারে ভালোবেসে যাই,
আমি একগাল হেসে নিশ্চুপ হয়ে বলি
ভালোবাসা তোরে লাল সালাম;জানাই বিদায়, 
তবুও সে চায়-
আমি যেনো তারে ভালোবেসে যাই। 

৪৫)
শিকলে বন্দী করে আমায়
নিজেকে করেছো নিজে খুন,
পারিনি আমি ভাঙ্গতে শিকল
আঘাতে আঘাতে হয়েছি অনুভূতিহীন। 

৪৬) 
বিপদ এলেও হাসতে জানি
      চেপে রেখে বুক,
  যা হবার তা হবেই হবে
গোমড়া হবেনা তবুও মুখ।

৪৭) 
ভাইরাল হওয়ার ভয়ে আমি
চুমু পাঠাইনি চ্যাটে,
'ভালোবাসি' মুখেই বললাম
চুমু রেখেছি ঠোঁটে। 

৪৮) 
আমি জগদ্বিখ্যাত প্রেমিক নই,
তোমায় দেখে তবুও কেনো
তোমার প্রেমে আক্রান্ত হই!
বিশ্বাস করো মায়াবতী -
আমি জগদ্বিখ্যাত প্রেমিক নই। 

৪৯) 
সন্ধ্যে হলেই অন্তর জ্বালাও
রাত্রি হলেই ঘুম কাড়ো,
মন নিয়ে খেলা করার
অভ্যাস টা এবার ছাড়ো৷ 

৫০) 
প্রেমিকার ঠোঁটের উষ্ণ তাপ
 তুমি ছুঁয়ে দেখো না বালক
        পাপ হবে পাপ। 

৫১) 
চোখ দুটো টলোমলো 
মুখ জুড়ে হাসি,
মনের শহরে বিচ্ছেদ বাধানো 
আসামির হউক ফাসি৷

৫২) 
আমি এমন একটা মানুষ  চাই
আমার মনের দামে,
বিশ্বজুড়ে চিনবে তারে
সবাই এক নামে।

৫৩) 
মায়ায় বেঁধো না আমায়
মায়া'তেই যত ভয়,
মায়ায় আটকে নষ্ট করেছি সময়
ভালোবাসার হয়েছে অবক্ষয়। 

৫৪) 
তুমি আরো ঘৃণা করো
আমি আরো সুখী হই,
সমালোচনার ঝড় তোলো বারংবার 
আমি যেন সবার আলোচনায় রই।

৫৫) 
চোখের ইশারায় প্রেম নেই
ঠোঁটের ইশারাতেও খুঁজলে হবে ভুল,
মনের ইশারায় প্রেম খুঁজে দেখো
হাত বাড়ালেই পাবে লাল গোলাপ ফুল।

৫৬) 
শব্দ প্রেমীরা-ই শব্দ নিয়ে খেলে
ছন্দের পাহাড় সাজায় নতুন শব্দ পেলে,
ভিন্নভাবে করে তারা কাব্য কথার গঠন 
শব্দের শূন্যতাকেই ভাবে তাদের পতন৷ 

৫৭) 
গলে গিয়ে বলে দাও ভালোবাসি প্রিয়
বিরহ ভুলে গিয়ে আপন করে নিও,
দুঃখের বেড়াজালে থেকো না বন্দী 
চোখেচোখে চোখ রেখে গড়ে তোলো সন্ধি। 

৫৮) 
নিজের মত বাঁচতে শিখো
নিজের মতই হাসো,
অন্যের মত হতে গিয়ে
সমুদ্রে কেন ভাসো?
হাসিটাকে আপন করেই
পা বাড়িয়ে চলো,
অন্যের কথায় থমকাবে কেন?
সেটা আমায় বলো।

৫৯) 
নিয়তির আঘাতে ভাঙ্গে যে ঘর
সে ঘরেই দাফন করে আপন হয় পর,
সময়ের ব্যবধানে নতুন যারা আসে
ক্ষত হওয়া হৃদয় দেখে তারাও মুচকি হাসে৷ 

৬০) 
আমাদের কোনোকালেই প্রেম ছিলোনা এই জগতে
আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম,
আমাদের সবাই  পাগল বলতো অযথাই 
আমরা শুনে অকারণেই খিলখিলিয়ে শুধু হাসতাম। 


Monday, November 18, 2019

ইসহাক মাহমুদ এর অণুকাব্য (১-৩০)

ইসহাক মাহমুদ এর
অণুকাব্য

১)
আমাদের আকাশে ঘনঘন মেঘ জমেনা
কারো মনে রাগ জমিলে খুব সহজে তা কমেনা,
আমাদের সীমান্তে সব মানুষের জায়গা হয়না
শান্ত পাখি বোবা হলে খুব সহজে কথা কয়'না। 

২) 
আমি যারতার ভালোবাসায় মজি নাহ,আমি যার তার ভালোবাসায় মজি। 
আমি যারতার কাছে যেতে চাইনা,আমি যার তার কাছে যেতে চাই। 
আমি যারতার রূপের প্রশংসা করিনা,আমি যার তার রূপের প্রশংসা করি। 
আমি যারতার জন্য কাব্য বুনি নাহ,আমি যার তার জন্য  কাব্য বুনি। 

৩) 
তারা'রা জেগে আছে কিনা দেখো
জোনাকি'রা দিচ্ছে কি আলো?
আকাশের মতো বিশাল হতে শেখো
মনের মানুষ যেথায় থাকুক; মন রেখো ভালো।

৪) 
পূর্ণতায় ভাসি-ডুবি
শূন্যতার বালাই নাই,
একাকীত্ব আর বলেনা
আমার একটা তুমি চাই। 

৫) 
যদি নাম বদল করেলেই মানুষ বদলে যেতো,
তবে অমানুষ গুলো রাত পেরুলেই টাটকা মানুষ হতো। 

৬) 
পৃথিবীর দূরত্ব তুমি মাপতে পারো অনায়াসে
মনের দূরত্ব মাপার সাধ্য তোমার আদৌও নেই,
ভেবে দেখো- ভালোবেসেছে কেউ তোমায় প্রকাশ্যে
সে বিলীন হয়নি,তবে বিলীন করেছে তোমাকেই। 

৭) 
যে মানুষটার বন্ধু নাই
সেই মানুষটা কষ্ট পায়,
যে মানুষটার বন্ধু আছে
সেই মানুষটা হাসতে হাসতে বাঁচে।

৮) 
রাতের আকাশ কালো হলে
জ্যোৎস্না হারায় আলো,
প্রিয়জনের অসুখ বাধলে 
মন থাকেনা ভালো। 

৯) 
বুকের ভিতর পুষে রাখি দুঃখ দিবানিশি, 
হয়না দেখা হয়না কথা তাতেও নই খুশি।  
আমার  কষ্ট জমে নষ্ট মনে থাকে বারোমাস, 
আমি তোমায় চেয়ে মনের ভুলে ডেকে আনি সর্বনাশ ।  

১০) 
আমি দূরে দূরে যাই আরও দূরে সরে
কাছে আসার সব আয়োজন মিথ্যে করে,
পৃথিবীর টানে কিংবা তোমাদের ভুলতে গিয়ে
আমি দূরে দূরে যাই আরও দূরে যাই মিলিয়ে। 

১১) 
আমৃত্যু ভালোবেসে যাবো লিখে নাও,
মৃত্যুর পরে মনে আসন দিবে কথা দাও। 

১২) 
আকাশ জুড়ে মেঘ জমেও
মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়না,
হৃদয় মাঝে ক্ষত হলেও
মানুষ তারে কষ্ট কয়'না। 

১৩) 
লিখার জন্য একটি সৎ চরিত্র খুঁজে বেড়াই,
অথচ সব চরিত্র-ই বেঈমানী করে চলে যায়। 

১৪) 
সব মানুষ সব মানুষের 
ভালোবাসার কারণ হয়না,
সব মানুষকে সব মানুষের
ভোগবিলাসী মনে সয় নাহ। 

১৫) 
যখন আমি তোমার ছিলাম নানান বাহানায়
তখন কেবল তুমি ছিলে আমার কল্পনায়,
যখন আমি আমার হলাম তুমি ছাড়ার পরে
তখন সবাই আমার হলো কাব্যকথার সুরে৷

১৬) 
আকাশ ছুঁইছুঁই গল্পে কারো
নাম লিখিনি খাতায়, 
ঠাঁই মিলেনি কাব্যে কেউ
ঠাঁই মিলেনি চিত্রের পাতায়। 

১৭) 
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা
জ্যোৎস্না রাতের আলো,
তারও চেয়ে সুন্দর তুমি
তোমায় বাসি ভালো। 


১৮) 
আমার বিষন্নতা তোমায় করেনি গ্রাস
হওনি কখনো দোষী, 
আমার এলোমেলো ভাবনার ছিলেনা ত্রাস
চেয়েছি তুমি হও খুশি। 


১৯)
সে যে ভীষণ ব্যস্ত এখন
আড়াল হতে চায়,
অন্ধকারে আলো জ্বেলে 
তার অস্তিত্ব বুঝায়।


২০) 
সিন্ডিকেটের মারপ্যাঁচে দেশটা এখন জিম্মি 
রসাতলে গেলো ডুবে সব ই,
বাড়ছে সবার হয়রানি তাই সস্তায় নাই সদাই
নানান দিকে ছড়াচ্ছে ভোগান্তির মূল ছবি। 

 
২১) 
তোমার আমার এক-জনমের দূরত্ব 
ভালোবাসায় একশো একটা বাধা,
এই ভুবনে জমছে নাহ প্রেম আর
ভালোবাসতে গেলেই দেখি চোখে গোলকধাঁধা। 

২২) 
সাগরের ঢেউ আমাকে ভীষণ টানে
বাতাসের প্রতিধ্বনি বুঝেনা তার মানে,
আমি সাগরকে উদ্দেশ্য করে বলে যাই -
হৃদয়ের সব অব্যক্ত কথন, 
বাতাস এসে মিলিয়ে দিলো কথাগুলো 
বাধতে দিলোনা "হৃদয়ের কানেকশন"। 

২৩) 
দিয়াশলাই'য়ের কাঠি দিয়ে 
মোমবাতি টা জ্বালাও,
আলোর ভিতর ঝলসে গিয়ে
আরো আলো দাও। 

২৪) 
সুখের পাখি যায়'রে উড়ে
পেখম তুলে আকাশে,
সুখটা আমার সয়'না মনে
মুখটা যে হয় ফ্যাকাসে। 

২৫) 
আমি বরং হেসেখেলে-ই বাঁচি
নিকষ কালো অন্ধকারে, 
তুমি বাঁচো আলোর শহরে
অন্য কারো সংসারে। 

২৬) 
সাগরের তীরে মানুষের ভীড়ে
হারানোর আশা পেলে ভালোবাসা,
ঢেউয়ের প্রেমে বাতাসের ছোঁয়ায় 
জমতো ভালোবাসা এই মন পাড়ায়। 
ফেলে আসা স্মৃতি জমানো ছবি
মুগ্ধতায় মুখোর আমি হয়েছি কবি,
হৃদয়ের কথা লুকানো ব্যাথা 
মিলিয়ে দিও তলিয়ে দিও এসে হেথা।

২৭) 
ফের কবে দেখা হবে আমাদের
ডায়েরিতে রেখেছো কি লিখে?
এই গল্পের শেষ  কোথায় গিয়ে!
ঘুম ভাঙ্গলে জানিয়ে দিও ডেকে। 

২৮) 
আস্ত একটা মন নিয়া 
পড়ছে মানুষ বেকায়দায়, 
এদিক থেকে ওদিক হলেই 
এক নিমিষেই জ্বলে যায়। 

২৯) 
আমি তারে অদেখাতেই দেখেছি বহুবার
স্বপ্নের ঘোরে বহুবার নিয়েছি পিছু,
তার নাম কি! গ্রাম কই! স্পষ্ট সে দেখতে কেমন!
জানা হয়নি আজও তার ব্যাপারে কিছু। 

৩০) 
"ভালোবাসা" শক্ত করে ধরতেই শিখায়। 
          নরম হাতের ধরায় -
 ভালোবাসা উড়ে যায়,পুড়ে যায়,
ছেড়ে যায়,দূর থেকে বহুদূরে যায়।