Monday, April 26, 2021

Is this human born || Ishak Mahmud

 I have a mother, yes we have a mother

But-

The child that the mother lost on the day of birth,

He also had a mother, or-

That child rises from the sewer or pile of dirt

He lost his old mother and came to his new mother's lap

He also had a mother, maybe still has.

If I have 'mother', I become a name

Who has or had no mother,

Maybe someone who still has a mother unknowingly,

He and I had the same definition

We humans are born.


But-

To this society, except me and us

Whose mother died after birth; and-

Whose mother is left in the sewers, drains, piles of garbage

Their definition has changed!

Society has given me a civilized name

He who has no mother has given him a helpless name

The one whose mother has left him is given a vulgar name

I, we and they are born human

A man, an orphan

I got the reputation of being a 'bastard'

Is this the success of human birth?


Poem:  Is this human born

 Poet: Ishak Mahmud 


26.04.2021

Tuesday, November 10, 2020

দশটি অনুকাব্য || Ten Short Poem

(১)

অন্তরে বাঁধিবঅন্তরঅলিন্দ

গেঁথে প্রেম-মালা,
রাখিব হৃদে শক্ত বাঁধনে
লাগিয়ে মায়া তাল। 
           

(২)

আলো'তে হয় যদি মাখামাখি হৃদয়ের

উড়িয়ে দিও প্রেম ঘুড়িতে,

টেনে নিতে চাও যদি ভালোবেসে মনেতে

জনম জনম চাই পুড়িতে।          



(৩)
তুমি হীনা এক-আধ রাত,
মনে হয় দীর্ঘ যুগের দীর্ঘ প্রভাত।         


(৪)
আমার একলা থাকার মানে সে-ও জানে
যে ছেড়েছে মাঝপথে'তে কাল,       
আমি দাপিয়ে বেড়াই তাহার খোঁজে-টানে
ভেঙ্গে গেছে জীবন গাছের ঢাল।           


(৫)
ছাড়তে পারি সব বদভ্যাস   
যদি তুমি চাও,
  তোমাকে মনে রাখার বদভ্যাসের
কেবল সুযোগ দাও। 

   ভুলতে পারি পুরোটা পৃথিবী
একটুখানি বাদে,
    যেখানটাতে আলাপে জড়াবো 
      দু'টো মনের ছাদে।    


(৬)
চোখ খুলতেই হঠাৎ তুমি সামনে এলে 
     বুকের ভিতর জায়গা করে থমকে দিলে,
      সেই যে গেলে কই হারালে কই হারালে 
  আমায় ছেড়ে কোন সুদূরে,কোন আড়ালে?            


(৭)
হারিয়ে গেলে খুঁজে নিও
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে, 
      তোমার সব অসুখ সারবে
আমি নামক এক ফাইলে।    


(৮)
প্রতিদিন-ই দেখা হতো আমাদের 
মানব শূন্য ভূমি কিংবা কোলাহলে,      
হঠাৎ হারাতেই দেখা হয়নি ফের
পাইন খুঁজে তোমায় আর ধরাতলে।  


(৯)
উদিত সূর্যের আলো; আর-
দিনের তেজী ভাব,    
অস্ত হলেই সন্ধ্যায় হারায়
চাঁদের আলো'ই লাভ।   


(১০)
বাঁচার তাগিদ সবারই আছে 
আমারও কি কম?
     তবুও মরে ছাড়তে হবে; ওরে-
এসে গেলে যম।     


 

Saturday, April 11, 2020

Love to live back || Ishak Mahmud || বেঁচে ফিরলে ভালোবাসিস || ইসহাক মাহমুদ



Love to live again
Tell me to forget when you die?
Maybe the road will be closed soon
I will be surrounded by a party of birds.

Do not know my hubby during this time
Live a few days as a human being,
If the grace of the widow is on earth a few days
But keep me company as an enemy.

I can't be a darling, a friend or an enemy
Kir, will you push away with false excuse?
Satan is an enemy to us forever
He is also with us in the veins.

Love to live again
Or pull it close to hit it,
People have never been immortal since living
I love to be immortal by killing.
_________________________
Poem: love to live back
Author: Ishak Mahmud 

[24-03-2020]

Thursday, November 21, 2019

ইসহাক মাহমুদ এর অণুকাব্য (৩১-৬০)

ইসহাক মাহমুদ এর
অণুকাব্য 


৩১) 
হে প্রিয় স্বদেশ-
সবুজের বুকে রক্তের দাগ
ভুলিনি আজও মোরা,
তোমায় বাঁচাতে লাখো প্রাণ শহীদ
লাখো প্রাণ গিয়েছে পোড়া। 
তোমাকে বাঁচাতে সম্ভ্রম হারিয়েছে মা
বোনের ইজ্জতে পড়েছে কালি,
তবুও তোমায় বাঁচিয়েছিল সবে
দিয়েছিল সবে জীবনের বলি। 

৩২) 
আপন মানুষ না পেলে
মানুষ কেন যায় চলে!
মনের ভিতর প্রশ্ন জাগে,
জীবন দিচ্ছো কিসের রাগে?
আত্মহত্যা মহাপাপ 
সেটা সবাই জানে
তবুও ক্যান মানুষ মরে; 
ভালোবাসার টানে! 

৩৩) 
বরং আমি চাঁদ'কেই ভালোবেসে রাত পাড় করি
জীবন্ত প্রেমিকার কাছে ভালোবাসা যেখানে মূল্যহীন, 
ব্যস্ত নগরীতে প্রেমিকারা যখন উপেক্ষা করে যায়
চাঁদ দিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসা;করছে ভুবন নিশিতে রঙিন ।

৩৪)
এরপর আর কোনো কথা নেই- 
একদম চুপ থাকো তুমি 
কিসের এতো কথা তোমার?
ভালোবাসবে এটাই বেশি
অল্প কথায় থাকো খুশি 
ব্যস্ত আমি অন্যদিকে,ব্যস্ততা খুব আমার। 

৩৫) 
চাঁদের শহর পাড়ি দিবো 
হাটতে হাটতে চাঁদে যাবো-
সঙ্গে যাবে নাকি? 
সিড়ি মই কই পাবো 
ভড়কে গিয়ে থমকে রবো-
দিবে না তো ফাঁকি? 
চাঁদে যাবে নাকি কন্যা 
চাঁদে যাবে নাকি? 

৩৬) 
ঠেলে দিলেই কাঁদেনা সবাই
হাসা'র লোকও আছে,
কান্নাকাটি দাফন করেই
হাসতে হাসতে বাঁচে। 

৩৭) 
সন্ধ্যে নামা আকাশটা'তে
কাব্য ছুড়ি তোমার নামে,
আমার মনের পোস্ট অফিসে 
চিঠি আসেনি কোনো খামে!

৩৮) 
কালো ঘরেই ভালো থাকে
ছেড়ে যাওয়া প্রিয়জন,
বাঁচিতে বুঝেনা মনের মানুষ 
মরিলে করে আপন। 

৩৯) 
কাজল চোখে রঙিন ঠোঁটে 
মনে দিও চোট,
তোমার মনে নির্বাচন হলে 
একা-ই দিবো হাজার ভোট। 

৪০) 
হাসির ছলে কথা বলে
দুঃখের করি খোঁজ, 
সুখটা আমার ভিতর বাহির
দুঃখ টা নিখোঁজ। 

৪১) 
চক্ষু দিয়ে ঘায়েল করে
বুকের ভিতর মারো পিন,
এপাশ ওপাশ চৌচির হয়ে
ব্যথায় হৃদয় করে চিনচিন। 

৪২) 
তোমার ভিতর আমায় একটু
বাঁচতে দিও প্লিজ,
দিব্যি তোমায় বাসবো ভালো 
করছি যে প্রমিজ। 

৪৩) 
তোমার অস্তিত্ব জুড়ে আমি নই বিদ্যমান,
আমার শিরা উপশিরায় তুমি রয়েছো বর্তমান।

৪৪) 
সে চায়-
আমি যেনো তারে ভালোবেসে যাই,
আমি একগাল হেসে নিশ্চুপ হয়ে বলি
ভালোবাসা তোরে লাল সালাম;জানাই বিদায়, 
তবুও সে চায়-
আমি যেনো তারে ভালোবেসে যাই। 

৪৫)
শিকলে বন্দী করে আমায়
নিজেকে করেছো নিজে খুন,
পারিনি আমি ভাঙ্গতে শিকল
আঘাতে আঘাতে হয়েছি অনুভূতিহীন। 

৪৬) 
বিপদ এলেও হাসতে জানি
      চেপে রেখে বুক,
  যা হবার তা হবেই হবে
গোমড়া হবেনা তবুও মুখ।

৪৭) 
ভাইরাল হওয়ার ভয়ে আমি
চুমু পাঠাইনি চ্যাটে,
'ভালোবাসি' মুখেই বললাম
চুমু রেখেছি ঠোঁটে। 

৪৮) 
আমি জগদ্বিখ্যাত প্রেমিক নই,
তোমায় দেখে তবুও কেনো
তোমার প্রেমে আক্রান্ত হই!
বিশ্বাস করো মায়াবতী -
আমি জগদ্বিখ্যাত প্রেমিক নই। 

৪৯) 
সন্ধ্যে হলেই অন্তর জ্বালাও
রাত্রি হলেই ঘুম কাড়ো,
মন নিয়ে খেলা করার
অভ্যাস টা এবার ছাড়ো৷ 

৫০) 
প্রেমিকার ঠোঁটের উষ্ণ তাপ
 তুমি ছুঁয়ে দেখো না বালক
        পাপ হবে পাপ। 

৫১) 
চোখ দুটো টলোমলো 
মুখ জুড়ে হাসি,
মনের শহরে বিচ্ছেদ বাধানো 
আসামির হউক ফাসি৷

৫২) 
আমি এমন একটা মানুষ  চাই
আমার মনের দামে,
বিশ্বজুড়ে চিনবে তারে
সবাই এক নামে।

৫৩) 
মায়ায় বেঁধো না আমায়
মায়া'তেই যত ভয়,
মায়ায় আটকে নষ্ট করেছি সময়
ভালোবাসার হয়েছে অবক্ষয়। 

৫৪) 
তুমি আরো ঘৃণা করো
আমি আরো সুখী হই,
সমালোচনার ঝড় তোলো বারংবার 
আমি যেন সবার আলোচনায় রই।

৫৫) 
চোখের ইশারায় প্রেম নেই
ঠোঁটের ইশারাতেও খুঁজলে হবে ভুল,
মনের ইশারায় প্রেম খুঁজে দেখো
হাত বাড়ালেই পাবে লাল গোলাপ ফুল।

৫৬) 
শব্দ প্রেমীরা-ই শব্দ নিয়ে খেলে
ছন্দের পাহাড় সাজায় নতুন শব্দ পেলে,
ভিন্নভাবে করে তারা কাব্য কথার গঠন 
শব্দের শূন্যতাকেই ভাবে তাদের পতন৷ 

৫৭) 
গলে গিয়ে বলে দাও ভালোবাসি প্রিয়
বিরহ ভুলে গিয়ে আপন করে নিও,
দুঃখের বেড়াজালে থেকো না বন্দী 
চোখেচোখে চোখ রেখে গড়ে তোলো সন্ধি। 

৫৮) 
নিজের মত বাঁচতে শিখো
নিজের মতই হাসো,
অন্যের মত হতে গিয়ে
সমুদ্রে কেন ভাসো?
হাসিটাকে আপন করেই
পা বাড়িয়ে চলো,
অন্যের কথায় থমকাবে কেন?
সেটা আমায় বলো।

৫৯) 
নিয়তির আঘাতে ভাঙ্গে যে ঘর
সে ঘরেই দাফন করে আপন হয় পর,
সময়ের ব্যবধানে নতুন যারা আসে
ক্ষত হওয়া হৃদয় দেখে তারাও মুচকি হাসে৷ 

৬০) 
আমাদের কোনোকালেই প্রেম ছিলোনা এই জগতে
আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম,
আমাদের সবাই  পাগল বলতো অযথাই 
আমরা শুনে অকারণেই খিলখিলিয়ে শুধু হাসতাম। 


Monday, November 18, 2019

ইসহাক মাহমুদ এর অণুকাব্য (১-৩০)

ইসহাক মাহমুদ এর
অণুকাব্য

১)
আমাদের আকাশে ঘনঘন মেঘ জমেনা
কারো মনে রাগ জমিলে খুব সহজে তা কমেনা,
আমাদের সীমান্তে সব মানুষের জায়গা হয়না
শান্ত পাখি বোবা হলে খুব সহজে কথা কয়'না। 

২) 
আমি যারতার ভালোবাসায় মজি নাহ,আমি যার তার ভালোবাসায় মজি। 
আমি যারতার কাছে যেতে চাইনা,আমি যার তার কাছে যেতে চাই। 
আমি যারতার রূপের প্রশংসা করিনা,আমি যার তার রূপের প্রশংসা করি। 
আমি যারতার জন্য কাব্য বুনি নাহ,আমি যার তার জন্য  কাব্য বুনি। 

৩) 
তারা'রা জেগে আছে কিনা দেখো
জোনাকি'রা দিচ্ছে কি আলো?
আকাশের মতো বিশাল হতে শেখো
মনের মানুষ যেথায় থাকুক; মন রেখো ভালো।

৪) 
পূর্ণতায় ভাসি-ডুবি
শূন্যতার বালাই নাই,
একাকীত্ব আর বলেনা
আমার একটা তুমি চাই। 

৫) 
যদি নাম বদল করেলেই মানুষ বদলে যেতো,
তবে অমানুষ গুলো রাত পেরুলেই টাটকা মানুষ হতো। 

৬) 
পৃথিবীর দূরত্ব তুমি মাপতে পারো অনায়াসে
মনের দূরত্ব মাপার সাধ্য তোমার আদৌও নেই,
ভেবে দেখো- ভালোবেসেছে কেউ তোমায় প্রকাশ্যে
সে বিলীন হয়নি,তবে বিলীন করেছে তোমাকেই। 

৭) 
যে মানুষটার বন্ধু নাই
সেই মানুষটা কষ্ট পায়,
যে মানুষটার বন্ধু আছে
সেই মানুষটা হাসতে হাসতে বাঁচে।

৮) 
রাতের আকাশ কালো হলে
জ্যোৎস্না হারায় আলো,
প্রিয়জনের অসুখ বাধলে 
মন থাকেনা ভালো। 

৯) 
বুকের ভিতর পুষে রাখি দুঃখ দিবানিশি, 
হয়না দেখা হয়না কথা তাতেও নই খুশি।  
আমার  কষ্ট জমে নষ্ট মনে থাকে বারোমাস, 
আমি তোমায় চেয়ে মনের ভুলে ডেকে আনি সর্বনাশ ।  

১০) 
আমি দূরে দূরে যাই আরও দূরে সরে
কাছে আসার সব আয়োজন মিথ্যে করে,
পৃথিবীর টানে কিংবা তোমাদের ভুলতে গিয়ে
আমি দূরে দূরে যাই আরও দূরে যাই মিলিয়ে। 

১১) 
আমৃত্যু ভালোবেসে যাবো লিখে নাও,
মৃত্যুর পরে মনে আসন দিবে কথা দাও। 

১২) 
আকাশ জুড়ে মেঘ জমেও
মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হয়না,
হৃদয় মাঝে ক্ষত হলেও
মানুষ তারে কষ্ট কয়'না। 

১৩) 
লিখার জন্য একটি সৎ চরিত্র খুঁজে বেড়াই,
অথচ সব চরিত্র-ই বেঈমানী করে চলে যায়। 

১৪) 
সব মানুষ সব মানুষের 
ভালোবাসার কারণ হয়না,
সব মানুষকে সব মানুষের
ভোগবিলাসী মনে সয় নাহ। 

১৫) 
যখন আমি তোমার ছিলাম নানান বাহানায়
তখন কেবল তুমি ছিলে আমার কল্পনায়,
যখন আমি আমার হলাম তুমি ছাড়ার পরে
তখন সবাই আমার হলো কাব্যকথার সুরে৷

১৬) 
আকাশ ছুঁইছুঁই গল্পে কারো
নাম লিখিনি খাতায়, 
ঠাঁই মিলেনি কাব্যে কেউ
ঠাঁই মিলেনি চিত্রের পাতায়। 

১৭) 
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা
জ্যোৎস্না রাতের আলো,
তারও চেয়ে সুন্দর তুমি
তোমায় বাসি ভালো। 


১৮) 
আমার বিষন্নতা তোমায় করেনি গ্রাস
হওনি কখনো দোষী, 
আমার এলোমেলো ভাবনার ছিলেনা ত্রাস
চেয়েছি তুমি হও খুশি। 


১৯)
সে যে ভীষণ ব্যস্ত এখন
আড়াল হতে চায়,
অন্ধকারে আলো জ্বেলে 
তার অস্তিত্ব বুঝায়।


২০) 
সিন্ডিকেটের মারপ্যাঁচে দেশটা এখন জিম্মি 
রসাতলে গেলো ডুবে সব ই,
বাড়ছে সবার হয়রানি তাই সস্তায় নাই সদাই
নানান দিকে ছড়াচ্ছে ভোগান্তির মূল ছবি। 

 
২১) 
তোমার আমার এক-জনমের দূরত্ব 
ভালোবাসায় একশো একটা বাধা,
এই ভুবনে জমছে নাহ প্রেম আর
ভালোবাসতে গেলেই দেখি চোখে গোলকধাঁধা। 

২২) 
সাগরের ঢেউ আমাকে ভীষণ টানে
বাতাসের প্রতিধ্বনি বুঝেনা তার মানে,
আমি সাগরকে উদ্দেশ্য করে বলে যাই -
হৃদয়ের সব অব্যক্ত কথন, 
বাতাস এসে মিলিয়ে দিলো কথাগুলো 
বাধতে দিলোনা "হৃদয়ের কানেকশন"। 

২৩) 
দিয়াশলাই'য়ের কাঠি দিয়ে 
মোমবাতি টা জ্বালাও,
আলোর ভিতর ঝলসে গিয়ে
আরো আলো দাও। 

২৪) 
সুখের পাখি যায়'রে উড়ে
পেখম তুলে আকাশে,
সুখটা আমার সয়'না মনে
মুখটা যে হয় ফ্যাকাসে। 

২৫) 
আমি বরং হেসেখেলে-ই বাঁচি
নিকষ কালো অন্ধকারে, 
তুমি বাঁচো আলোর শহরে
অন্য কারো সংসারে। 

২৬) 
সাগরের তীরে মানুষের ভীড়ে
হারানোর আশা পেলে ভালোবাসা,
ঢেউয়ের প্রেমে বাতাসের ছোঁয়ায় 
জমতো ভালোবাসা এই মন পাড়ায়। 
ফেলে আসা স্মৃতি জমানো ছবি
মুগ্ধতায় মুখোর আমি হয়েছি কবি,
হৃদয়ের কথা লুকানো ব্যাথা 
মিলিয়ে দিও তলিয়ে দিও এসে হেথা।

২৭) 
ফের কবে দেখা হবে আমাদের
ডায়েরিতে রেখেছো কি লিখে?
এই গল্পের শেষ  কোথায় গিয়ে!
ঘুম ভাঙ্গলে জানিয়ে দিও ডেকে। 

২৮) 
আস্ত একটা মন নিয়া 
পড়ছে মানুষ বেকায়দায়, 
এদিক থেকে ওদিক হলেই 
এক নিমিষেই জ্বলে যায়। 

২৯) 
আমি তারে অদেখাতেই দেখেছি বহুবার
স্বপ্নের ঘোরে বহুবার নিয়েছি পিছু,
তার নাম কি! গ্রাম কই! স্পষ্ট সে দেখতে কেমন!
জানা হয়নি আজও তার ব্যাপারে কিছু। 

৩০) 
"ভালোবাসা" শক্ত করে ধরতেই শিখায়। 
          নরম হাতের ধরায় -
 ভালোবাসা উড়ে যায়,পুড়ে যায়,
ছেড়ে যায়,দূর থেকে বহুদূরে যায়।



Thursday, November 14, 2019

সেরা ৩০ টি উক্তি - ইসহাক মাহমুদ

  ইসহাক মাহমুদ এর উক্তি সমূহ   

(১)
লাশ গুণে দেখো তো কতো হলো,
আরেকটা লাশ লাগলে ভয় করোনা আমায় বলো ।

(২) 
বিদেশী প্লেয়াররা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পর মাঝেমধ্যে দু'য়েকদিন খারাপ খেলে,অন্যদিকে আমাদের দেশি প্লেয়াররা ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেলার পর মাঝেমধ্যে দু'য়েকদিন ভালো খেলে ।

(৩) 
কেমন মানুষ চাও তুমি,
কেমন মানুষ? 
সুযোগ পেলেই আঘাত করে,
এমন মানুষ! 

(৪) 
আগুন কখনো আগুনে পুড়ে না 
সাগর ডুবে না জলে,
ভুল কখনো ভুল করে না
মিথ্যে শহর তলে। 

(৫) 
অনেক কিছু বলার থাকলেও,মাঝেমধ্যে চুপ হয়ে যেতে হয়।
পরিস্থিতি চুপ হয়ে যেতে বাধ্য করে।

(৬) 
ছবির মানুষ ছবিতেই সুন্দর 
বাস্তবে নয় জিরো,
নানান চিত্রে নিজকে সাজায়
লোকের চোখে হিরো। 

(৭) 
দেশের কল্যাণে যুদ্ধ করে মারা গেলে শহীদ আর বেঁচে থাকলে গাজী। কিন্তু জীবনযুদ্ধে মরে গেলে লাশ আর হেরে গেলে সর্বনাশ । 

(৮) 
পদ্মবিলে মায়াবতী পদ্ম নিতে এসে
নয়া মাঝির প্রেমের ফাঁদে গিয়েছে যে ফেঁসে,
যেই মেরেছে ছুঁড়ে পানি মায়াবতীর পানে
হাসির রেখা আঁকলো ঠোঁটে প্রেম শিকারীর টানে। 

(৯) 
আমাদের বোঝাপড়া হয় শব্দের গহীন অরণ্যে 
মিলেমিশে হয়ে যাই একাকার নিরালায়, 
একের চাহিদা অন্যে মিটিয়ে আমরাও তৃপ্তি পাই
শব্দের খেলা চলে প্রতিনিয়ত আমাদের এই আঙ্গিনায়। 

(১০) 
তুমি পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করবে,
আর আমি শূন্যতা বুকে নিয়েই মরে যাবো!
এমন ভাবলে বোকামি হবে; জেনে রেখো-
আমিও পূর্ণতা কাকে বলে তা দেখিয়ে দিবো। 

বুঝি,সব ই বুঝি
তবুও চুপ থাকি অবেলায়,
আমারও সময় হবে নিজেকে চেনানোর 
বিস্তৃত জনতার মাঝে একুশে বইমেলায় । 

(১১) 
তুমি আরো ঘৃণা করো
আমি আরো সুখী হই,
সমালোচনার ঝড় তোলো বারংবার 
আমি যেন সবার আলোচনায় রই।

(১২) 
বাপ যেখানে কয়না কথা
পোলা সেথায় লাফায়,
নাতির লাফানি দেইখ্যা দাদায়
কাশতে কাশতে হাফায়। 

(১৩) 
কারো কবিতায় রূপ আঁকা হয়
কারো কবিতায় সুখ,
কেউ আঁকেন তরুণীর গঠন
কেউবা বয়স্ক মুখ ।

(১৪) 
সম্পর্কের সুতোয় সম্পর্ক বেধে
আটকা পড়ি মায়ায়,
অঙ্কুরে বিনষ্ট সম্পর্কেও সম্পর্ক খুঁজি
অস্পষ্ট তোমার ছায়ায়।

(১৫) 
ক্রমাগত আমাদের পরিবর্তন ঘটে
আমরাও বদলে যাই ধরায়,
ভালোবেসে পরাজিত আমিও হই
জয়ী হও তুমি বংশপরম্পরায়। 

(১৬) 
কিছু অদ্ভুত প্রশ্নের ভীড়ে
জ্ঞানী পড়েছে চাপা, 
হয়নি তার কিছুই বলা
পৃথিবী হয়নি মাপা।

(১৭) 
কারো স্বপ্ন সাইকেলেও
তাকে নিয়ে উড়ে,
কারো স্বপ্ন বৃত্তে আটকে 
পূব পশ্চিমে ঘোরে। 

(১৮) 
তব'দাহে মন ব্যথিত জীবন 
করিনু গোপন প্রেম,
ললাটের লিখন যায়'কি খণ্ডন 
শুধাও রাধা-শ্যাম। 

(১৯) 
মানুষ ছেড়ে যাওয়ার পরে মানুষ মানুষকে ধীরেধীরে ভুলে যাবে,এটাই মানুষ হিসেবে মানুষের সহজ সমীকরণ। 

(২০) 
পৃথিবীর ভিতরেও আমরা 
নিজস্ব একটা পৃথিবী খুঁজি,
শব্দের তুলি দিয়ে পৃথিবীকে 
সাজাই নীরবে চোখ বুজি। 

(২১) 
নিয়ম মেনে বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো তুমি
আমার এখন হচ্ছে কেবল ঠিক সন্ধ্যেবেলা 
আকাশ থেকে ঘুম পরী'রা আসুক নামি ঘুম পাড়াতে
দেখবে তখন কেমন আমি,কেমন আমার খেলা। 

(২২) 
সময়কে অবজ্ঞা করোনা, সময় বড়ই মূল্যবান ।  কেননা প্রতি মিনিটে অন্তত ৬০ বার টিকটিক শব্দ করে হলেও তোমাকে বুঝিয়ে দেয় জীবন থেকে কিভাবে মহামূল্যবান ১ মিনিট সময় ঝরে গেলো। 

(২৩) 
মন খুলে যে হাসতে জানে
তার সীমানায় দুঃখরা হানা দিয়েও সুখের অস্তিত্ব বিলীন করতে পারেনা।

(২৪) 
নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে ভালোবাসলে  কষ্ট পেতে হয়,সুখে থাকার জন্য অসংখ্য মানুষকে ভালোবাসতে হয়। 

(২৫) 
এখানে সত্যের কদর নেই
বলেছে ইস্কু ভাই,
এখানে মিথ্যে দিয়ে মন ভরালেই
করবে নাম কামাই।

(২৬) 
পরিচিত মুখ যখন অপরিচিতির রেখা টানে,তখন নিজের কাছে নিজেকেও অপরিচিত লাগে।

(২৭) 
শুনিও জ্ঞানীর কথা সর্বদা 
যদিও হয় ছোট জন,
করিও গুরুজনে ভক্তি শ্রদ্ধা 
হউক সে যেমন তেমন।

(২৮) 
প্রাইমারি স্কুলের বন্ধু,হাইস্কুলের বন্ধু,কলেজের বন্ধু,ভার্সিটির বন্ধু,গ্রামের বন্ধু,গ্রামের বাহিরের বন্ধু,শহরের বন্ধুদের একই দিনে স্মরণ করতে পারিনা বলেই আমরা সবাইকে ভুলে যাই। 
আমাদের উপর বন্ধুদের এই অভিযোগ । আমরা এই অভিযোগে অভিযুক্ত আসামি। 

(২৯) 
বিশ্বাসের ঘরে ডুকেছে আজ
অবিশ্বাসের জ্যান্ত ভূত,
সালিশ  ডাকলো ঘরের মালিক
মিথ্যা হইলো ভূতের দূত। 

(৩০) 
আমাদের সীমান্তে ছড়িয়ে থাকে
আকাশের লেপ্টে থাকা প্রেম,
দখিনের হিমেল হাওয়ায় শোনা যায়
তোমাদের জুড়ে দেওয়া নিক নেম।



Tuesday, September 10, 2019

The feeling of an era


Do you remember?
After the transaction of our mind
The first thing was, what did you say that day?
They said that we should be like birds,
We are like birds
Have the freedom to fly.
I never let that go away from my head,
That little dream of yours turned into my dream.

Do you remember what you said after two years and two months?
You may not know, you don't even have to remember.
After an era has passed -
Not all people can remember these memories,
Human memory is also lost.
But I still haven't forgotten that,
I have forgotten many things but never forgotten you,
Remembering you means remembering your memories.

That afternoon you said-
We should also go to a deep forest
Like birds, I make life in the corners of trees.
And so I prepared myself that way,
I made a place for myself under the shade of trees.
The act of seeing you from the bottom started,
But what strange thing happened?
You were not lost and hidden.

You know, Anupama.
Even after an era, I can feel you,
Maybe they'll say I'm doing drama,
Otherwise, I am growing up with myself.

≈The feeling of an era ≈ 
  Ishak Mahmud

Wednesday, July 10, 2019

কে কার জন্য বেঁচে আছে


কে কার জন্য বেঁচে আছে
কে জানে!
উপরওয়ালা জুড়ি মিলাবেন
মন মানে।

কে কার জন্য দুঃখ পোষে
কে জানে!
মন-মহাজন সুখেই রাখবেন
মন মানে।

কে কার জন্য রাগ জমায়
কে জানে!
পরম দয়ালু শান্ত রাখবেন
মন মানে।

কে কার মনে আঘাত করে
কে জানে!
সৃষ্টিকর্তা ভালোই রাখবেন
মন মানে।

কে কার অধিকার চিনিয়ে নেয়
কে জানে!
সর্বশক্তিমান বিচার করবেন
মন মানে।

কে কার হৃদয়ে বসত করে
কে জানে!
প্রভু মোদের সুখের ঠিকানা দিবেন
মন মানে।

কবিতাঃ কে কার জন্য বেঁচে আছে
লেখকঃ ইসহাক মাহমুদ 

Sunday, June 16, 2019

প্রথম দর্শনে প্রেম (গল্প)

গল্পঃ প্রথম দর্শনে প্রেম
লেখকঃ ইসহাক মাহমুদ

অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করলাম। ঠিকটাক মতো পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারলে গ্রাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পাবো। এরপর ক্যারিয়ারের চিন্তা মাথায়,পরিবারকে একটা শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষা। এতকিছুর ভীড়ে প্রেম ভালোবাসা নামক সম্পর্কে নিজেকে জড়ানোর কোনো ইচ্ছেই ছিলো নাহ মাথায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মাথায় প্রেম ভালোবাসার চেয়ে পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়াটাই মূখ্য বিষয় হয়ে থাকে। যদিও গুটিকয়েক ঠিক ই প্রেম ভালোবাসায় সংযুক্ত হয়,তবে তাদেরকে চাপের মুখেও থাকতে হয় প্রায় সময়।

আমার কাছে ভালোবাসা'টা কেমন জানি পানসে পানসে লাগতো। অভাবের সংসারে ভালোবাসার কদর খুব একটা হয় নাহ। এভাবেই চতুর্থ বর্ষের ২ মাস কেটে গেলো। খুব একটা ক্লাস করতে পারিনি এই দুই মাসে। বাবার ব্যবসায় সময় দেওয়া আর টিউশনি নিয়েই আমার সময় পাড় হচ্ছিলো। একদিন একটা বিশেষ ক্লাস থাকায় ভার্সিটিতে যেতে হলো।

ডিপার্টমেন্টর দিকে ডুকতেই একটা নতুন মুখ চোখের সামনে দেখা দিলো। যদিও এর আগে এই মুখ কখনোই দেখিনি,তবুও আমার কেনো জানি মনে হচ্ছিলো এই মুখ আমার চিরপরিচিত। হাজার বছর আগেও আমি এই মানুষটাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি,মানুষটার সাথে মিশেছি। বুকের ভিতর ভূকম্প শুরু হয়ে গেলো এক নিমিষেই। আমি ক্ষনিকের জন্য থমকে গেলাম,সামনের দিকে আমার পা এগুচ্ছে নাহ। এমন অপ্সরীর মতো মানবী চোখের সামনে থাকলে যেকোনো যুবক ই থমকে যাবে,হারিয়ে যাবে কল্পিত কোনো রাজ্যে। আমারও একই উপক্রম হলো,আমিও নিজেকে উড়িয়ে নিয়ে গেলাম স্বপ্নপুরীতে।
হঠাৎ একটা আওয়াজ কানে আসতেই মতিভ্রম ভুলে কল্পনার রাজ্য ছেড়ে বাস্তবে ফিরে এলাম। একি! এ তো সেই মানবী,যাকে দেখেই আমার মতিভ্রম শুরু হয়েছিলো। আমার সামনে এসেই সুন্দরী মানবী জিজ্ঞেস করলো--


-- আপনি কি এই ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট?
- প্রত্যুত্তরে আমি বললাম,হ্যাঁ আমি এই ডিপার্টমেন্টের ই। ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট।

-- ওহ ভাইয়া,আসলে আমি এই ডিপার্টমেন্টে নতুন ভর্তি হতে এসেছি। আসলে কিভাবে কি করতে হবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি নাহ। যদি একটু সাহায্য করতেন তাহলে উপকৃত হতাম।

-- আচ্ছা তোমার কাগজপত্র গুলো দেখি।

কাগজপত্র গুলো হাতে নিয়ে চেক দিয়ে দেখলাম ওর নাম "নিহা খন্দকার "। চেহারার সাথে নামের অপূর্ব মিল। ওর উদ্দ্যেশ্যে বললাম--

-- তোমাকে সর্বপ্রথম টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে,তারপর ব্যাংক ড্রাফটের কাগজ এবং এসএসসি ও ইন্টারমিডিয়েট এর কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়েটা আমাকে প্রত্যুত্তরে বলতে লাগলো--

-- আমি আসলে এখানকার কিছুই চিনি নাহ। আপনি তো পুরাতন স্টুডেন্ট,আমার ভর্তি নিশ্চিত হওয়া অব্ধি যদি একটু সাহায্য করতেন আর কি।

এমন রূপবতী কন্যার কথা কি আর ফেলা যায়! যদিও " ভাইয়া" ডাক টা বিরক্তিকর লাগতেছিলো। রূপবতীদের মুখে ভাইয়া ডাক শুনার ইচ্ছে কোনো যুবকের ই নেই। পারিবারিক ক্ষেত্রে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। ওকে সাথে নিয়ে ভার্সিটির গেইটের কাছে আসলাম। এখান থেকে যমুনা ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে আসতে হবে। ৭/৮ মিনিট হাটলেই যমুনা ব্যাংকে পৌঁছানো যাবে,তবুও হাটতে ইচ্ছে হলো নাহ। এমন অপ্সরীর পাশে হাটার চেয়ে পাশে বসেই যাওয়া ভালো। তাই রিক্সা ডাক দিয়ে রিক্সাতে উঠলাম। পাশাপাশি দুজন,উদ্দেশ্য যমুনা ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক ড্রাফট করা। হেটে গেলে যে পথে ৭/৮ মিনিট লাগে,সেই পথে রিক্সায় যেতে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগেছিল জ্যামের কারণে। অবশ্য কোনো সুন্দরী রমণীর পাশে বসলে ৫ মিনিটের পথে ৫ ঘন্টার জ্যাম ও সহনীয় হয়ে যায়। ক্লান্তি কিংবা বিরক্তির কোনো ছাপ আসেনা মুখের কোণায়। তখন মন পঙ্খীরাজে করে উড়তে থাকে হাওয়ার শহরে,এই শহরে মিনিটের কাটা ৩৬০০ সেকেন্ডে একবার ঘোরে।


গত পনের মিনিটে নিহা আমাকে কম করে হলেও পনের হাজার কথা জিজ্ঞেস করেছে। কই থাকি,বাড়িতে কি করি,বাসায় কে কে আছে,কয় ভাই-কয় বোন,বাবা কি করে ইত্যাদি ইত্যাদি। একসময় তো হুট করে জিজ্ঞেস করে বসলো বিয়েসাদী করেছি কিনা। তখন প্রত্যুত্তর দিতে গিয়ে থতমত খেয়ে গেলাম। কিরে বাবা,পড়াশোনায় অধ্যয়নরত কোনো ছেলেকে হুট করে কোনো মেয়ে এমন প্রশ্ন করে! জীবনে প্রথমবারের মতো এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হলাম। যাক,অবশেষে ঠিকঠাক মতোই বলে দিয়েছি আমি যে এখনো সিঙ্গেল তত্ত্ব  অনুসরণ করে পথ চলছি। তবে একটা কথা মনে করে খুব তাজ্জব হয়ে গেলাম,এই মেয়ে একটিবারের জন্যও আমার নাম জানতে চাইলো নাহ। নাম জানা ছাড়াই একটা ছেলের পাশে বসে একটা মেয়ে এতো সানন্দে রিক্সায় চড়ে কি করে! হয়তো প্রয়োজনের তাগিদেই ব্যস্ত শহরের পথটায় ১৫ মিনিটের ভ্রমণ করেছে৷

আমরা সরাসরি যমুনা ব্যাংকের সামনে গিয়ে নামলাম। ওরে রিক্সা ভাড়া দিতে চাইলে আমি বারণ করলাম৷ কোনো রমণীর ভাড়ায় রিক্সা ভ্রমণ মানা যায়না,বিমানের ভ্রমণ হলে সেটা অন্য বিষয় ছিলো। যাইহোক,রিক্সাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে আমরা ব্যাংকের ভিতরে ডুকলাম। গত চার বছর এখানে পড়াশোনা করার কারনে ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে আমার ভীষণ সখ্যতা গড়ে উঠেছে। ভিতরে ডুকতেই সেকেন্ড ম্যানেজার রাসেল ভাই সালাম দিলেন,আমিও সালাম বিনিময় পর্ব টা সেরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কি জন্য এসেছি,প্রত্যুত্তরে বললাম কিছু টাকা ব্যাংক ড্রাফট করবো। তিনি পিয়ন কে ডেকে একটা ব্যাংক ড্রাফটের কাগজ দিলেন৷ নিহাকে দিয়ে কাগজটা পূরণ করিয়ে তাকে সিরিয়ালে দাঁড় করিয়ে দিলাম টাকা জমা দেওয়ার জন্য। মেয়েদের সিরিয়ালে ছেলেদের দাঁড়ানোর নিয়ম নেই,নাহলে টাকা জমা দেওয়ার কাজটাও আমার করা লাগতো। একে একে সিরিয়াল সামনের দিকে এগুচ্ছে,আর আমি দূর থেকে ওর মায়াবী মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।

ভাবতে লাগলাম- স্বর্গ থেকে কোনো পরী যেনো আমার জন্য জমিনে নেমে এসেছে,এই বুঝি আমাদের প্রেম জমে উঠলো। ভাবনার জগতে দোল খেতে খেতেই সময় কাটিয়ে দিলাম কিছুক্ষণ। নিহা টাকা ব্যাংক ড্রাফট করেই আমার সামনে এসে বললো,"চলুন,এখানকার কাজ শেষ।" এরপর আমরা ব্যাংক থেকে বাহিরে বেরিয়ে এসে পূনরায় রিক্সায় উঠলাম। আসার পথে ওকে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পাইনি,তাই প্ল্যান করে নিলাম যাওয়ার পথে প্রশ্নের ভার টা আমার কাধে-ই চাপিয়ে নিবো। যেই ভাবা সেই কাজ--

-- আচ্ছা নিহা তোমার বাসায় কে কে আছে?

-- প্রত্যুত্তরে নিহা বললো,"নামটা দেখছি মগজে ফিট করে নিয়েছেন! কাহিনী কি?

-- তোমাকে যেটা প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দাও।

-- আমরা দুই ভাইবোন ও আমার মা আছে। "

-- তোমার বাবা?

-- বাবা নেই,উনি আরো চার বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। (একটু গম্ভীর হয়ে)

-- ইন্না-লিল্লাহ....... সরি,আসলে তোমার বাবার জিজ্ঞেস করে বোধহয় তোমাকে কষ্ট দিয়ে ফেললাম।

-- আরে নাহ,কষ্ট দেওয়ার মতো কিছুই হয়নি।

-- ভাইবোনের মধ্যে তুমি ই কি সবার ছোট? তোমার ভাই কি করে?

-- নাহ,আমার ভাই আমার দুই বছরের ছোট। সে এবার ইন্টারমেডিয়েট প্রথম বর্ষে আছে। এলাকার একটি কলেজ থেকে পড়াশোনা করছে।

-- তোমার আম্মা কি করে?

-- উনি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আছেন। আব্বা আগে চেয়ারম্যান ছিলেন,সেই সুবাধে আব্বা মারা যাওয়ার পরে এলাকার মানুষ আম্মাকে চেয়ারম্যান পদে আসন পাকাপোক্ত করে দিয়েছেন। এলাকার মানুষের সেবা নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকেন। আমার আব্বাও সারাজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।


এরপর আর তেমন কোনো প্রশ্ন করার সাহস হয়নি,এরচেয়ে বেশি প্রশ্ন করলে মেয়েটা হয়তো বাবার শোকে কেঁদেই ফেলবে।
রিক্সা থেকে ভার্সিটির গেইটের সামনে গিয়ে নামলাম। এবারও ভাড়া চুকিয়ে দেওয়ার দায়িত্বটা আমার কাঁধেই নিলাম। নিহা অনেক জোর করেছিলো ভাড়াটা নিজে দেওয়ার জন্য,কিন্তু আমার জন্য দিতে পারেনি। আমি ভিতরে ভিতরে ভাবতে লাগলাম,"সবেমাত্র তোমার রিক্সা ভাড়ার দায়িত্ব নিয়েছি,পুরোটা জীবন তোমার দায়িত্ব নেওয়ার জন্যেও আমি প্রস্তুত হয়ে আছি।" কোনো সুন্দরী রমণীর  প্রতি একবার ভালোবাসা জন্মে গেলে তার পুরোটা জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যুবকের মন চটপট করতে থাকে। মেয়েরা অবশ্য এই জিনিসটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে,"কে তাকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখছে,কে তাকে কামুকতার দৃষ্টিতে দেখছে।" তাদের উপলব্ধি শক্তি প্রখর।

ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে এতক্ষণে ডিপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছে গেলাম। আজ আর গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস টা করা হলো নাহ। রূপবতীদের জন্য এমন হাজারটা ক্লাস মিস দেয়া ই যায়,এতে ক্ষতির চেয়ে লাভ টা ই বেশি। ডিপার্টমেন্টের কেরানির কাছে গিয়ে নিহার ভর্তি প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করে দিলাম। এরপর বাহিরে বেরিয়ে এসে নিহাকে জিজ্ঞেস করলাম--

-- ভর্তি প্রক্রিয়া তো শেষ হলো,এবার কি করবে?

-- কি আর করবো,বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।

-- তোমাদের বাড়ি কোথায়?

-- কুমিল্লাতে।

-- কি বলো!! আমার বাড়িও তো কুমিল্লায়। কুমিল্লার কোথায়?

-- সুয়াগাজি উপজেলায়।

-- আমার আর তোমার বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি দূরে নাহ। ১৫/১৬ কিলোমিটার  হবে। আমাকেও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। চলো একসাথে যাওয়া যাক,কি বলো?

-- আচ্ছা চলেন। তবে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো করবো ভেবে এতক্ষণেও জিজ্ঞেস করা হলো নাহ।

-- কি কথা? বলে ফেলো নিঃসন্দেহে।

-- আমার নাম তো চুরি করেই মুখস্থ করে নিলেন। কিন্তু আপনার নাম টা তো জানা ই হলো নাহ। কি নাম আপনার?

-- অধমের নাম ইসহাক মাহমুদ। বন্ধুমহলে অবশ্য আরো কয়েকটা খ্যাতনামা নাম আছে,সেগুলো আজ না হয় গোপন-ই থাকুক৷ চলো এখন বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়া যাক।

-- আচ্ছা চলুন তাহলে।

বাড়ির উদ্দেশ্যে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে গাড়ির দেখা মিললো। উঠে কোনোমতে বাসের পিছনে বাম কোণায় দুটো ফাঁকা সিট পেলাম। নিহাকে জানালার পাশে বসতে দিয়ে আমি তার পাশের সিটে বসলাম। মেয়েদের জানালার পাশের সিটেই মানায়,কেননা সেখানে বসলে বাতাসে তাদের কাজলকেশর উড়ার সুন্দর দৃশ্যটি উপভোগ করা যায়। চুলের মাতাল করা ঘ্রাণে নিজেকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতি উপলব্ধি করা যায়। চলন্ত বাসে তার উড়ন্ত চুলের মাতাল করে গন্ধে নিজেকে একপ্রকার হারিয়েই ফেলেছিলাম। পাশাপাশি সিটে প্রায় ঘন্টাখানেক কাটিয়ে দিয়ে আমি আমার গন্তব্যে পৌঁছালাম৷ বাস থামলেও আমার মন থামতে চাইছিলো নাহ। মন কেবল তার সাথে ছুটে যেতেই চাচ্ছিলো৷ সে যে আমার হৃদয়ে  প্রথম দর্শনে প্রেম জাগিয়ে তোলা রমণী। তারে ছেড়ে কি যাওয়া যায়!!

তার অজান্তেই একটা চিরকুটে আমার ফোন নাম্বার আর দুটো লাইন ছুড়ে এলাম তার কাধে থাকা ব্যাগে। যদি সে দেখতে পায়,তবে হয়তো তার চোখের সামনে সেই দুটো লাইন ভেসে উঠবে। যেখানে লেখা ছিলো -

"প্রথম দেখাতেই হৃদয়ে আমার করলে আক্রমণ,
তুমি আমার 'প্রথম দর্শনে প্রেম' জাগানো অতি আপনজন।"

অপেক্ষায় আছি,হয়তো সে ফোন করবে বলে। এমন একজনের জন্য চাইলে হাজার বছরও অপেক্ষা করা যায়। দূর থেকেও ভালোবাসা যায়৷ দুয়েক'শত মাইল দূর থেকেও তাকে কাছের মানুষ ভাবা যায়৷ বোকাসোকা ভাবলেও হাসতে হাসতে আপন ভাবা যায়৷ একান্তই নিজস্ব সম্পদ বলে দাবি করা যায়।



Thursday, November 22, 2018

Bangla Poem - বাংলা কবিতা ( খামখেয়ালি ইচ্ছে)

কবিতাঃ খামখেয়ালি ইচ্ছে
লেখকঃ ইসহাক মাহমুদ
__________________

আমার খামখেয়ালি ইচ্ছেগুলো
ইচ্ছেতে আর পায়না ঠাঁই,
রঙবেরঙ এর নানান স্বপ্ন
খুঁজে দেখি কোথাও নাই৷

আমার হাসিমাখা ছেলেবেলা
বড় হতেই গেলো কই!
মনের সাথে মনের বিবাদ
অবাক হয়ে তাকিয়ে রই!

আমার কাঠপেন্সিলে আঁকা বিষাদ
বাস্তবে আজ নিলো রূপ,
ওরা খেলে ওদের মতই
আমি কেবল থাকি চুপ৷

আমার ভালোবাসার নীল পরীটাও
রাজা পেয়ে গেলো চলে,
আমি শুধু আমিই রইলাম
একাকীত্বের অথই তলে৷

আমার ভালো থাকার কিশোর বেলার
বন্ধুটাও আজ অনেক দূর,
পড়ে রইলাম নির্জনে তে
নাম নাকি তার অচিনপুর৷


Wednesday, November 21, 2018

Romantic Story (মহারাণীর শাসন - Moharanir Shason)

নিশাতের ফোন কলে ঘুম ভাঙ্গলো,কোনোরকম চোখ কচলে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বিশাল ধমকের সুরে নিশাত চেচিয়ে বলো উঠলো-
"কি হলো,নবাবজাদার এখনো ঘুম ভাঙ্গেনি?"

ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখি সকাল ১০:৪২ টা। এই যা আজকে আর রক্ষা নেই। ১০ টা বাজে নিশাতের সাথে ক্যাম্পাসে দেখা করার কথা। আর আমি কিনা এখনো ঘুমাচ্ছি।

- নিশাত,তুমি ১০ টা মিনিট অপেক্ষা করো। আমি ১০ মিনিটের ভিতরেই ক্যাম্পাসে হাজির হচ্ছি।

- গুল্লি মারি তোমার ১০ মিনিটের। তোমার আসতে হবেনা। আমি চললাম বাড়ির উদ্দেশ্যে।

-- এই প্লিজ প্লিজ,যেও নাহ। তুমি গেলে আমার বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। ১০ টা মিনিট ই তো।

-- আচ্ছা আসো নবাবজাদা। আজকে তোমার হাল খারাপ না করে তাহলে আমি আর যাচ্ছি নাহ৷

-- থ্যাংক ইউ মহারাণী।

একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আমাদের মধ্যে দুজনের একজন রেগে গেলেই আমি নিশাতকে মহারাণী নামে ডাকি,আর নিশাত আমাকে বানিয়ে দেয় নবাবজাদা।

নিশাত আমার ক্লাসমেট। আমরা দু'জন ই একই ডিপার্টমেন্টে পড়ি। ভার্সিটিতে আসার পরে অনেক বন্ধুর ভীড়ে আমার বন্ধু তালিকায়  নিশাতের আগমন ঘটেছিল হঠাৎ করেই৷ পুরো ভার্সিটি জুড়ে নিশাত ই আমার একমাত্র মেয়ে বন্ধু। অনেকেই আমাদের বন্ধুত্বটাকে অন্য দৃষ্টিতে দেখে৷ তাদের ধারণা আমরা প্রেম আবদ্ধ আছি। তবে সেদিকে আমার আর নিশাতের কর্ণপাত নেই। আমরা আমাদের মতই চলছি ফিরছি। গত সাড়ে ৩ বছরে ওকে যতটা জ্বালিয়েছি,অন্যকেউ হলে এতদিন সহ্য করে থাকতো বলে আমার মনে হয়না৷

নিশাতের একটা বিশেষ গুণ হচ্ছে সে কখনোই আমার উপর বিরক্তবোধ করেনি। এমনও দিন গেছে তাকে তীব্র রৌদ্রে ২ ঘন্টা ও দাড় করিয়ে রেখেছি অপেক্ষা করতে বলে। আমি কখনো তার ভিতরে এর জন্য রাগ দেখিনি। এমন একটা বন্ধু পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।
_
কোনোমতে ফ্রেশ হয়েই ক্যাম্পাসের দিকে দিলাম দৌড়। ১০ মিনিটের কথা বলে আজকেও অনেকক্ষণ দাড় করিয়ে রেখেছি।

-সরি,সরি,সরি৷ বুঝতেই পারছি মহারাণী আজকে ভিষণ ক্ষ্যাপা আমার উপর। আপনি যে শাস্তি দিবেন,সে শাস্তি আমি মাথা পেতে নিবো জনাবা।

- ইয়ার্কি করা হচ্ছে আমার সাথে তাইনা? দাড়াও দেখাচ্ছি তোমার ইয়ার্কির ফল।

এই বলেই আমার পিঠের উপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে গেল।

বন্ধুত্বের ভীড়েও যে এমন ভালোবাসার শাসন চলে সেটা কেউ আঁচ করতে পারেনা। বেশিরভাগ লোক ই এটাকে প্রেমের সম্পর্কে গুলিয়ে ফেলে।

ছোটগল্পঃ মহারাণীর শাসন
লেখকঃ ইসহাক মাহমুদ